মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্রের বিকাশ এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে শনিবার (২ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
বিবৃতিতে আসক উল্লেখ করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল একটি সাংবিধানিক অধিকারই নয়, বরং এটি অন্য সকল নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি। বর্তমানে সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিরসনে এই দাবিগুলো অত্যন্ত জরুরি।
১. কার্যকর সুরক্ষা: সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মাঠপর্যায়ে এবং কর্মস্থলে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২. আইন সংস্কার: মতপ্রকাশের পরিপন্থী সকল আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং এসব আইনের অপব্যবহার রোধ করা।
৩. বিচারের নিশ্চয়তা: সাংবাদিকদের ওপর হওয়া প্রতিটি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
৪. তথ্য অধিকার: তথ্য অধিকার আইনের সঠিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যাতে তথ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় থাকে।
৫. পেশাদার পরিবেশ: স্বাধীন ও নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চার জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা।
৬. বৈষম্য দূরীকরণ: নারী ও প্রান্তিক পর্যায়ের সাংবাদিকদের জন্য বৈষম্যহীন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
আসক-এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, “মুক্ত ও নিরাপদ গণমাধ্যম পরিবেশ নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সাংবাদিকরা যাতে ভয় ও চাপহীনভাবে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। অন্যথায় রাষ্ট্র ও সমাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব নয়।”
বিবৃতিতে সংস্থাটি আরও জানায়, ডিজিটাল ও বাস্তব জগতে সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ ও হামলা মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া অপরিহার্য।
Leave a Reply